Thursday, September 25, 2008

জাহাঙ্গীরনগরের যৌননিপীড়ক শিক্ষকসহ তার রক্ষক প্রশাসন নিপাত যাক!


১.কিছুই অচেনা নয়


রাষ্ট্রের জৈবিক অবস্থান শেষ বিচারে নির্যাতনকারীর পক্ষে, এটা কোন নতুন ঘটনা নয়। ইতিহাসে রাষ্ট্রকে যতবার গণমূখী সিদ্ধান্ত নিতে দেখা গেছে তার প্রতিটাই কোন না কোন গণবিপ্লবের ফসল হিসেবে।

১৯৯৮/৯৯ সালে প্রশাসন আংশিক পরাজিত হয়ছিল প্রবল ছাত্রঅভ্যুত্থানের মুখে। ১৯৯৯ এর ২ আগস্ট ধর্ষণকারীরা ছাত্রজনতার ধাওয়ার মুখে ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য হয়ছিল। তাদের পক্ষ হয়ে প্রশাসন দেড় মাসের মাথা ক্যাম্পাস বন্ধ করে অন্য একটি আন্দোলনের ফাঁদে ফেলে আন্দোলনকারীদের উপর প্রতিশোধ নেয়। দুমাস ক্যাম্পাস বন্ধ ছিল সেবার। তাতে আন্দোলনকারীদের কৌশলগত ব্যর্থতা ছিল। তবে তাতে প্রশাসনের অসাধুতা হালাল হয় না। আমার স্পষ্ট মনে আছে সেবার প্রশাসনের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিল ছাত্রলীগ আর ছাত্রদলের পেটোয়া বাহিনি। কেন এসেছিল? এসেছিল দুদিন আগে জনতার ধাওয়া খাওয়ার ঝাল মেটাতে।

আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে দেখা যৌন নিপীড়ন বিরোধী আরেক আন্দোলন, যাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক অভিযুক্ত ছিলেন, সেখানেও দেখেছি আন্দোলন দমন করতে আওয়ামী-বিএনপি পেটোয়াবাহিনির বৃহত্তর কোয়ালিশন। ঢাকা আর জাহাঙ্গীরনগরে প্রকাশ্য রাজনীতি নিশিদ্ধ থাকায় শিবির সামনে না এলেও আন্দোলন বিরোধী প্রচারণায় তাদের দার্শনিক অবস্থান আওয়ামী লীগ-বিএনপি থেকে অভিন্ন।

দশ বছর পরে আমি প্রবাসে বসে যখন পত্রিকার খবর আর মাঠে থাকা বন্ধুদের কাছে আন্দোলনের বর্ননা শুনি, চোখের সামনে ইতিহাসের হোমোজিনিয়াস সজ্জাই দেখতে পাই। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের দুই বৃহত্তম রাজনৈতিক জায়গীরদার আওয়ামী লীগ আর বিএনপি অবশ্যই একমত হতে পারে, তবে শুধুমাত্র গণপ্রতিরোধের বিরুদ্ধে, নির্যাতনকারীর পক্ষে।

২. গণপ্রতিরোধই সভ্যতার চৈতন্য, মানুষ ইতিহাসের নির্মাতা


১৯৯৮ সালের ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনের সপ্তাহ দুয়েক পরে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের উদ্যোগে আন্দোলনকারী সাধারণ ছাত্রঐক্যের সকল শরীক সংগঠণ এবং নির্দলীয় অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে জাবি ক্যাফেটেরিয়াতে একটি আন্দোলন পর্যালোচনা সভা হয়েছিল। অনেক তর্কবিতর্কে সেদিন সভা শেষ হয়। তবে যে কিউইডিতে মোটামুটি সকলে একমত হয়েছিল তা হলো, যৌন নিপীড়ন ক্ষমতা কাঠামো থেকে বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। ধর্মের বা জনগণের বিপরীতে থাকা রাজনৈতিক শ্রেণীর চাপিয়ে দেওয়া প্রতিক্রিয়াশীল নৈতিকতা নয়, যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই করা জনগণের প্রকৃত প্রতিপক্ষ হচ্ছে রাষ্ট্র। ধর্ষণকারী যে পুরুষতান্ত্রিক চৈতন্য ধারণ করেন তা নির্যাতনকারী রাষ্ট্রের চৈতন্য। জনগণের এই লড়াই তাই চট করে শেষ হবার নয়। যৌন নিপীড়ন বিরোধী নীতিমালা হতে পারে এই লড়াই এর একটি বিরাট মাইল ফলক, তবে শেষ কথা নয়।

যৌন নিপীড়নসহ সকল প্রকার নির্যাতনের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ চলছে চলবে। সকল সুস্থ মানবিক বোধ সম্পন্ন মানুষ এই প্রতিরোধের সমর্থনে আছে, থাকবে।

জনতার জয় হোক!

No comments: