Thursday, January 01, 2009

টুকরো টুকরো লেখা ৯


১.

নির্বাচন টানে না। কোন সুনির্দিষ্ট অবস্থানের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষন আপাত: শেষ বিচারে বস্তুগত সিদ্ধান্তের নির্ধারক নাও হতে পারে, যদি সেখানে ঐ সুনির্দিষ্ট বস্তুগত প্রতিবেশে বিদ্যমান বস্তুবাদী দ্বান্দ্বিকতা সমুহে পরবর্তী বস্তুগত নির্মানে সৃজনশীল বিকাশ ঘটানো সম্ভব হয়। সেই বিকাশের সম্ভাবনা যাচাইয়ের পথটিকেও আবার নাকে খত দিয়ে বস্তুবাদী হতে হবে নইলে হালের বহু সুলিখিত গবেষনাপত্রের মতো তাতেও হাঁউমাউকাউকাউ সম্ভাবনা থেকেই যায়....

.......সুতরাং প্রাক-ঔপনিবেশিক সমাজে আর্থ-রাজনৈতিক কাঠামোগত উন্নয়নের প্রসঙ্গকে মনোযোগের কেন্দ্রে না রাখতে গেলে যে একরাশ কল্পনার আশ্রয় নিতে হবে তাতে করে নানান রঙ্গের কল্পনার ব্যাপারিরাই বাজারে গাঁইট হয়ে বসে পড়বে....

কি জানি...............সময়টাই হয়তো মারফতি!

২.

আমার ব্যক্তিগত অনুমানে ( প্রেডিকশানের ভালো বাংলা কী?) তেমন কোন হেরফের হয় নাই। বরং জনগণের উপর আস্থা বেড়েছে। জনগণ আপাত: বিপক্ষ শক্তিকে ডাস্টবীনে ছুঁড়ে ফেলতে জানে। ইতিহাসের নির্মাতা হিসাবে জনগণের এই নির্ধারক ভুমিকাতে আমি উল্লসিত। সেই সঙ্গেই পরবর্তী প্রতারনার ফাঁদ সম্পর্কে শঙ্কিত। এই শঙ্কা থাকবেই। অন্তত যতক্ষণ আমি জনগণের পক্ষে থাকছি ততক্ষণ থাকবে।

তবে ঘটনা হচ্ছে এবার আওয়ামী লীগ আসলে ফাঁদে পড়া একটি দল। যদি তার দেশীয় এবং বিদেশী পরামর্শদাতারা কোনরকম উত্তরাধুনিক পরামর্শ না দিয়ে থাকে তবে তর্কাতীতভাবে তাঁদের সিদ্ধান্তে পৌঁছবার কথা যে, এইবার যুদ্ধাপরাধীদের কাঠগড়ায় না চড়ালে, একই সঙ্গে তাঁদেরকে বাংলাদেশ এবং নিজেদের রাজনৈতিক দলকে স্থায়ীভাবে ইতিহাসের হার্ডডিস্ক থেকে ডিলিট করে দিতে হবে। অন্য যে কোন অপশনই তাঁদের জন্য পরিস্কার রাজনৈতিক আত্মহত্যার সামিল। এক্ষেত্রে জনতার জুতা থেকে থুতু থেকে তাদেরকে বাঁচাতে পারে একমাত্র সাম্রাজ্যবাদ। সেখানে আস্থা রাখতে গেলে দলটি ঐতিহাসিক প্রাসঙ্গীকতার সঙ্কটে পড়বে। তাতে দলটি যতটা না সঙ্কটে পড়বে তার থেকে গভীরতর সঙ্কটে ফেলবে জনগণকে।

জনগণ কিন্তু বরাবরই মত প্রকাশে সৎ।

৩.

অনেকেই দেখলাম ২৯ তারিখের নির্বাচনে জয়ী রাজনৈতিক দলের দলীয় সীমাবদ্ধতাকে বর্ধিত করাতে কেঁদে ফেলছেন। তাতে কী খুব সুবিধা হবে? সঙ্কটটা আসলে বারুদ অথবা মাখন পর্যায়ের। এই দফা যুদ্ধাপরাধীদের খতম করা অথবা নিজেরা খতম হওয়া।

এর মাঝামাঝি কোন লাইনের অস্তিত্ব কল্পনা করাও নিজের গলায় ক্ষুর চালানো, সে আপনার বহুৎ ইংলিশ কওয়া এঞ্জিও পরামর্শদাতারা (মূলত: লন্ডনবাসী) যাই বলুক না কেন। এটা আপনাদের জন্য ইতিহাসের তৈরী এমন এক সীমাবদ্ধতা যার অন্যথার অর্থ ঝাড়েবংশে নিহত হওয়া।

৪.

আওয়ামী লীগ নামের যেই দলটারে ১৯৬০ দশকের মাঝামাঝি থিকা প্রগতিশীল রাজনীতির সমর্থকরা নিজেগো আপাত: মুখপাত্র হিসাবে বিবেচনা কইরা আইতাছে তাগো ইতিহাস সম্পর্কে উন্নাসিকতাও কিন্তু একভাবে ফরহাদ মজহারগো ইতিহাস বিরোধী দর্শন সমর্থন করার সমার্থক। আওয়ামী লীগ হইল আদতে বেঙ্গল মুসলীম লীগের একটা ফ্র্যাকশান। এমন একটা ফ্র্যাকশান যারা ভোটের রাজনীতির প্রয়োজনে বিগত ৫০ বছরে বিভিন্ন চেহারায় বিভিন্ন তড়িকায় নিজেগো লিবারেল ডোমোক্র্যাট বইলা দেখানোর চেষ্টা করছে। ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়টুক ছাড়া বাকী সব সময়েই তারা নিজেদের এই প্রচারে সফল। অর্থাৎ বাস্তবে তাগো এই দাবী অপ্রমাণিত। উল্টাদিকে দীর্ঘ চার থিকা পাঁচশ বছরের ঔপনিবেশিক শাসনের অধিনস্থ জনতার পৌনপুণিক, উদার গণতন্ত্রের সন্ধানে, প্রায় পঞ্চাশ বছর ধইরা নানাভাবে তাগো ভোটাইয়া যাওয়া যে ধারাবাহিক ভাবে প্রতারিত হওয়া এইটাও আওয়ামী লীগের তরফ থিকা, এপ্মিরিক্যালি প্রমাণিত।

৫.

আওয়ামী লীগের গঠন উপাদানরে যদি বস্তুবাদী প্রিন্সিপলের জায়গা থিকা নির্ধারক ধরি, সেই অবস্থান থিকা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা তার পক্ষে অসম্ভব।

খতম আওয়ামী লীগ আগামী ৫ বছর পরে এমনেও হবে ওমনেও হবে। কিন্তু রাজাকার খতম করতে গিয়া যদি খতম হয় তাইলে ইতিহাসে তাঁর উজ্জ্বলতর ভুমিকা থাকবে। আর যদি এমন হয় যে গা বাঁচাইতে জামাতরেও ছাইড়া দিলো আবার আশা করলো যে আঙ্কল স্যাম তাগো বাঁচাইবো তাইলে শেখ হাসিনার সামনে বেনজির ভুট্টোর ছিন্ন বিচ্ছিন্ন লাশের পরিনতি ছাড়া আর কিছুই অপেক্ষা করতাছে না।

আওয়ামী লীগের ইউনাইটেড কিংডমবাসী ইম্পেরিয়ালবাস্টার্ড পরামর্শদাতারা যা ই ভাবুক না ক্যান, অনেক প্রাক-ঔপনিবেশিক দেশের মতো বাংলাদেশে সাম্রাজ্যবাদের সবচাইতে শক্তিশালী, সবচাইতে ওয়াফাদার, সবচাইতে মিলিট্যান্ট প্রতিনিধি, ইসলামী মৌলবাদের সবচাইতে সংগঠিত রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীরে শিকড়শুদ্ধা উপড়াইয়া না ফালানোর প্রতিশোধ জনগণ পাঁচ বছর পর নিবে। তাতে মৌলবাদ খতম হোক না হোক আওয়ামী লীগ হবে। (এখানে ভোটের রাজনীতির বা সাবেক সোভিয়েত পন্থীদেরমধ্যে যারা ভায়া গণফোরাম আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন সেইসব দৃষ্টিকোণ হাসিমুখে ডাস্টবীনে ফেলা হলো।)

আওয়ামী লীগ যদি এদেশে ভবিষ্যতে রাজনীতি করতে চায় তবে আজকের সুযোগই শেষ সুযোগ। জনগন এরপর তাদেরকে আর কোন সুযোগ দেবে না। এই কথাটা তাঁরা উপলব্ধি করতে পারলে ভালো। নাইলে, লন্ডনবাসী বাস্টার্ডদের কথায়, জামায়াতে ইসলামীকে বাঁচিয়ে দিলে ইতিহাস ঠিকই প্রতিশোধ নেবে।

৬.

ঘটনা হৈল গত ২৫ ডিসেম্বর লেজ কাটা গেছে। তাই আমার বুকে এতো জ্বালা মন খারাপ

No comments: