Wednesday, July 23, 2008

আরো এক খাবলা অণুগল্প

১.

মোকলেস সাহেবের সাথে আসগর সাহেবের জমিজমা ঘটিত গ্যাঞ্জাম অনেকদিনের। কিছুদিন আগে আজগর সাহেব সাবেক ক্ষমতাসীন দলের সহায়তায়, মোকলেস সাহেবের বাড়ির পেছনে পূবদিকের প্রায় কাঠা দুয়েক জায়গা দখল করে ফেলেন। সরকার বদলানোর পরদিন থেকেই মোকলেস সাহেব আজগর সাহেবের বাড়ির সামনের খোলা মাঠ থেকে খানিকটা মেরেদেবার মতলব অল্পজ্বালে ভেজে চলেছেন।

এমতাবস্থায় আজগর সাহেব একদিন সকালে বিছানা থেকে গা তুলে স্বভাবমতো জানালা দিয়ে বাইরে উঁকি দিয়ে দেখেন, কে বা কারা তার উঠানের উপর কয়েক বান্ডিল কাঠের তক্তা ফেলে গেছে। উত্তেজিত হয়ে বাইরে এসে আজগর সাহেব, কে বা কারার গুষ্টি উদ্ধার করতে শুরু করলে গলির পশ্চিমদিকের প্রতিবেশী হামিদ সাহেবের পুত্র সদ্য কিশোর সেন্টু জানালো, ঐ কাঠগুলি আসলে রুহুল আমিন নামে কেউ একজন রেখে গেছেন। বলেছেন পরে নিয়ে যাবেন। অনুমতি ছাড়া কারো সীমানার ভেতরে কিছু রাখা যে অপরাধ এটা কি জনৈক রুহুল আমিন জানেন না? বহুকষ্টে রাগ চেপে রুহুল আমিন সাহেবকে তলব করা হলো। তিনি এসে বললেন, আরে আমি তো একটু পরেই নিয়া যাইতাম! আচ্ছা এখনই নেই, বলে কাঠ তোলায় মন দিলেন। আজগর সাহেব একসাথে গোটা পঁচিশেক গালি দিতে গিয়ে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি করেন? রুহুল আমিন সাহেব স্মিত হেসে বললেন, আমি ভিসামুক্তবিশ্ব আন্দোলন করি।

২.

রহিমদের পাশের বাসার ভাড়াটিয়ার ছেলে রবিন এসে একদিন সকালে রহিমের বাবাকে জানালো, ওয়াসার লোকজন তাদের বাসার পানির লাইন কেটে দিতে এসেছে। রহিম আর রহিমের বাবা হন্তদন্ত হয়ে ছুটলেন। কি ব্যাপার? ওয়াসার রেভিনিউ ইন্সপেক্টার আলম সাহেব তাঁর দীর্ঘদিনের পরিচিত। তিনি জানালেন, রবিনদের বাসা থেকে গত সাড়ে সাত বছর যাবৎ কোনরকম পানির বিল দেওয়া হয়নি। হতেই পারে না। রবিনের বাবা বাড়ি ছিলেন না। তাঁর মা'কে রহিমের বাবা জিজ্ঞাসা করলেন, ভাবী, বিলের কাগজগুলি একটু নিয়া আসেন না? আলম সাহেব বললেন, আরে ভাই বিল দেয় নাই তো কাগজ দেবে কৈত্থিকা? আপনি প্লিজ একটু থামেন। ভাবী দেখেন না কোথায় আছে...., রহিমের বাবা প্রতিবেশী বন্ধুপত্নীর দিকে তাকিয়ে বলেন।

ভাবী হাসেন। স্নিগ্ধ, রহস্যময় হাসি।
: কি হলো?
: বিল তো আমরা দেই না।
: মানে?
: আমরা পানির বিলটিল দেইনা। বিল একছের বেশী আসে!

No comments: