Wednesday, July 23, 2008

জাহাঙ্গীরনগরের ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন ১৯৯৮

ধর্ষণের ঘটনা বহুদিনের পুরনো । তবে আগেকার ছাত্রনেতা রা বিশেষত ৯১-৯৬ এ ক্ষমতায় থাকাকালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাদের মধ্যে যাদের বিচিতে সমস্যা ছিল তারা গার্মেন্টস থেকে ক্যাম্পাসের উপর দিয়ে বাড়ি ফেরা শ্রমিকদের উপর চড়াও হতেন অথবা ভাড়া করে নিয়ে আসতেন । ছাত্রীদের উপর আক্রমণের প্রবণতা মাঝে মধ্যে দেখা দিলেও সেটা বেশীদুর এগুতো না অথবা সংশ্লিষ্টা বিষয়টি চেপে যেতেন । ৯৩ বা ৯৪ তে একবার কল্পনা নামের একটি মেয়েকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে, সীমান্ত নামের এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে । সেই আন্দোলন আধখেচরা ভাবে শেষ হলো এক বছরের বহিস্কারাদেশ এর মাধ্যমে ।কিন্তু সেই সময়কার প্রতিরোধ এবং সমসাময়িক সূযর্াস্ত-আইনবিরোধী আন্দোলন থেকে আবাসিক মেয়েদের মধ্যে সংগ্রামী চেতনা গড়ে উঠতে থাকে। পরবর্তী সকল আন্দোলনেই মেয়েদের অংশগ্রহন একটি বিশেষ মাত্রা ধারণ করে। নারী আন্দোলনের ইস্যু গুলো স্বভাবতই ভোটের রাজনীতিতে শীর্ষস্থানে থাকা রাজনৈতিক সংগঠণ গুলো ধারণ করতে পারেনি। মূলগত ভাবে প্রতিষ্ঠাণ বিরোধী বলে নারী ইস্যুতে ন্যুনতম ঐক্য শেষ পর্যন্ত বামপন্থীদের সাথেই হয়েছে। অনেক বোরখা বা হিজাব পড়া মেয়েদেরকে দেখা গেছে 8ই মার্চ পর্ষদের র্যালীতে। এই দিক থেকে হল দখলের রাজনীতির লৈঙ্গিক চরিত্রও লক্ষ্য করার মতো। যেটা মেয়েদের প্রতি, হল দখলকারী লুম্পেনদের রাজনৈতিক জিঘাংসার খুব বড় কারণ।

মূল বর্ণনায় ফিরে আসি। মানিক ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ায়, রেপিস্ট মানসিকতার যাবতীয় পোলাপান ছাত্রলীগের পতাকাতলে সমবেত হতে থাকে। নানারকম কানাঘুষা কানে আসতে থাকে ১৯৯৮ এর ফেব্রুয়ারি থেকে । বান্ধবীদের কাছে মাঝে মাঝেই শুনতে পাই নানারকম কথাবার্তা। যদিও কেউ নিশ্চিত করে কিছু বলে না,তবু এক ধরনের আতঙ্ক দেখা যাচ্ছিল মেয়েদের মধ্যে। মানিক আর তার বেশ কিছু চামচা একত্রে বের হয়ে ছাত্রীহলের সামনে, ট্রানসপোর্টে, প্রান্তিকে বা ডেইরি ফার্মে গায়ে পড়ে আলাপ জমানোর তালে থাকতো। আমি এবং আমার মতো যারা রাজনীতি করতো না তারা মানিক গংদের আবির্ভাবের আগেই রুমে ফিরতো বা অন্য কোথাও যেত। আমাদের ক্লাসের একটি ছেলে অবশ্য মানিকের ডান হাত ছিল, মানে বডিগার্ড আর কি। অনেক কথা শুনতাম তার কির্তিকলাপ সম্পর্কে। সময়টা কেমন যেন বোবা হয়ে যাচ্ছিল। আমার সঙ্গে বামপন্থীদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ঘনিষ্ট হবার কারণে আমার দিকেও মাঝে মধ্যে নজর পড়তো হল "র্কতৃপক্ষের"। ছাত্রলীগে আর দলে আমার যত বন্ধু বান্ধব ছিল তারা সবাই মানিক বিরোধী হওয়ায় সবসময় কোণঠাসা বোধ করতাম। ভিতুর ডিম ছিলাম আসলে একটা।

গ্রীষ্মের বন্ধের আগে শুনতে পেলাম একটি জুটিকে নাকি পিস্তলের মুখে জিমনাসিয়ামের দিকে নিয়ে গিয়ে ছেলেটাকে বেঁধে রেখে, মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে। আবার শুনলাম হলে ফেরার পথে নাকি একজনকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে লাইব্রেরীর সামনে থেকে। এসব গল্প বলার সময়ে অনেক ছেলের মধ্যে একধরনের আমোদ লক্ষ্য করতাম। একদিন কানে এলো সালাম-বরকত হলে মানিক নাকি ককটেল পার্টি দিয়েছে, শতক উপলক্ষে। মাথা ভোঁ ভোঁ করতো এসব শুনে।

জুনের শেষ দিকে ছুটি শেষে হলে ফিরে শুনলাম বন্ধের মধ্যে নাকি ৭-৮ টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। চাপা আতঙ্ক ধীরে ধীরে উত্তেজনায় রূপ নিতে থাকে। আজেবাজে কিছু রিপোর্ট দেখতে পাই মানব জমিনে। আগস্টের সম্ভবত ১৮ তারিখে ডেইলি স্টারে একটি রিপোর্ট আসে। হঠাৎ করেই পুরো ক্যাম্পাস বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। মেয়েদের হলগুলো থেকে অতি বিশাল মিছিল বের হয়। ছেলেদের হল থেকে দেখি যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদের নেতৃত্বেই মিছিল। মিছিলে যোগদান বাধ্যতামূলক। কেটে পড়লাম। চলে গেলাম রেজিস্টার ভবনের সামনে। সেখানে দেখি মেয়েরা বাদে শুধু গণতান্ত্রিক ছাত্র ঐক্য এবং ছাত্র ফেডারেশনের এবং ব্যক্তি হিসেবে যারা সাধারণ্যে গড়পড়তা বামপন্থী বলে পরিচিত (যেমন থিয়েটারের বেশীর ভাগ আর জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের বেশীর ভাগ কর্মী) তারা উপস্থিত। তবে সবমিলিয়ে সমাবেশটি বিশাল। বর্তমানে যেখানে ব্যাঙ্ক এবং পরীক্ষা অফিস সেই পর্যন্ত এসে ঠেকেছে। ছাত্রলীগের ব্যানারে যে মিছিল টি এলো তাকে মূল সমাবেশের সঙ্গে মিলতে বাধা দিলো নারী নেত্রীরা। মেয়েদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে লীগ আলাদা সমাবেশ করতে বাধ্য হলো। সেই শুরু। এরপর আন্দোলনের সমর্থনকারী ছেলেরা বেশীরভাগই রাতে হলে থাকা বাদ দিলো। অনেকে আবার লীগের মিছিলের সঙ্গে হল থেকে রওনা দিয়ে কায়দা করে "সাধারণ ছাত্রঐক্য" ব্যানারের নীচে গিয়ে ভিড়তে শুরু করলো । ছাত্রলীগ এই দফায় হুমকি-ধামকি দিলেও প্রথম অবস্থায় কারোই গায়ে হাত দিচ্ছিল না । তবে যেকোন সময়ে হিটের সম্ভাবনায় যারা হলে ফিরছিল তারা নিজের রুমে রাত কাটাতো না । এইভাবেই চলে যায় আন্দোলনের প্রথম সপ্তাহ । আমি প্রতিদিনই ভোরে বের হয়ে লাইব্রেরীতে গিয়ে বসে থাকতাম । পরে ১২ টার দিকে গিয়ে ছাত্র ঐক্যের অবস্থানে যোগ দিতাম । দুপুরের দিকে চলে আসতাম ঢাকায় গোয়থে ইনসটিটিউটে । ইতিমধ্যে প্রশাসন থেকে তদন্ত কমিটি গঠণ করা হলো। ছাত্রলীগ জোরেশোরে প্রচার শুরু করলো যে এটা আসলে স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের প্রচার, নইলে ধর্ষিতা জনসমক্ষে আসেনা কেন ইত্যাদি সেই সঙ্গে বামপন্থী এবং নারীবাদীদের বিরুদ্ধে যত প্রকারের অশ্লিলতা সম্ভব। সব মিলিয়ে মাত্র দুজন সাংবাদিক ছিল আমার জানামতে ধর্ষণকারিদের পক্ষে। যে কারণে সাংবাদিকদেরও বেশীর ভাগকেই হলের বাইরে থাকতে হচ্ছিল। তখনও প্রথম আলোর জন্ম হয়নি। মোটামুটি সঠিক কাভারেজ দিচ্ছিল সংবাদ,ডেইলি স্টার আর ভোরের কাগজ। এরমধ্যে মানিক এবং তার কয়েক সহযোগী এক কান্ড করে বসলো। নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক রেহনুমা আহমেদ ছবি তুলছিলেন ছাত্রলীগের সমাবেশের। হঠাৎ সেখানে মানিকের চোখ পড়লো। "টিটু ধর !!!ক্যামেরা ভাঙ" টিটু ছুটে গিয়ে প্রথমে ম্যাডামকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিলেন তারপর ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে আছাড়, বেরিয়ে পড়া ফিল্মে প্রথমে কামড় পরে পাড়া দিয়ে নষ্ট করা হলো। আর যায় কোথায়। সারা দেশের নারীবাদী সংগঠণগুলো ক্ষেপে উঠলো। আবার তদন্ত কমিটি। ১ সেপ্টেম্বর ঘটনার সাথে জড়িত ৫ ছাত্রকে হাস্যকর ধরনের কারণ দর্শাও নোটিশ দেওয়া হলো। কিন্তু এই ঘটনা আন্দোলনকে আলাদা শক্তি দিলো। ওদিকে ৯৮ এর বন্যার পানি বাড়তে থাকলেও আন্দোলনে অংশগ্রহণের হার বাড়তে থাকলো। হলে ধমকা ধমকি হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেল। মানিক,টিটু সহ ৫ জনকে ছাত্রলীগ থেকে আই ওয়াশ ধরনের বহিষ্কার করা হলো। ছাত্রলীগ এবার আর ধর্ষণবিরোধী মিছিল বের না করে আন্দোলন বিরোধী মিছিল বের করা শুরু করলো। কিন্তু মিছিলের আকার ক্রমশ ছোট হয়ে আসছিল।

এদিকে প্রশাসনে চলছিল রেপিস্টদের বাঁচানোর সর্বাত্মক প্রচেষ্টা। মানিকের মামা ছিলেন কলাভবনের তৎকালীন ডিন। তিনি এবং আরো অনেক রুই কাতলারা তদন্তকে ব্যাহত করার জন্যে মরীয়া হয়ে ওঠেন। কিন্তু আন্দোলনকারীরা, বিশেষত মেয়েরা ডেসপারেড হয়ে উঠেছিল। বেশ কিছু ভিকটিম তদন্ত কমিটির কাছে গোপনে সাক্ষাতকার দিয়ে আসে। বহু চেষ্টা করেও এগুলো আটকানো সম্ভব হয়না, তদন্ত কমিটিতে কিছু প্রগতিশীল ব্যক্তির উপস্থিতিতে। আমাদের বিভাগীয় প্রধান নাসিম আখতার হোসাইন এবং ইডেন কলেজের এন.রাশেদার ভুমিকা ছিল মুখ্য। রাশেদা ম্যাডামকে একদিন লীগের কিছু গুন্ডা শারিরিক ভাবে আক্রমণও করে। সমবেত প্রতিরোধের কারণে পারেনি। তৎকালিন প্রক্টর একদিন অবস্থান ধর্মঘটকে ইঙ্গীত করে ছাত্রলীগ ক্যাডার মীরাদুল কে বলেন তোমরা কি কর? এগুলারে উঠাইয়া দিতে পারো না? মানিক আর টিটু ক্যাম্পাসে থাকা অবশ্য এরমধ্যেই কমিয়ে দেয়। এই উত্তাল অবস্থার মধ্যে সম্ভবত ৭ই সেপ্টেম্বর ভার্সিটি বন্ধ ঘোষনা করা হয় বন্যার অজুহাতে।

১৯৯৮ এর বন্যায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ডুবে গিয়েছিল । ঐ সময় ক্যাম্পাস মোটামুটি খালি হয়ে যায় । ঢাকায় আমরা বেশ কিছু মিছিল সমাবেশ করি। ১৬ সেপ্টেম্বর আবার খোলে ইউনিভার্সিটি। ইতিমধ্যে সরকারের উপর রীতিমতো আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগ শুরু হলেও মানিক-চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস পাচ্ছিল না প্রশাসন। আমার এখনও মনে হয়, মানিক রেহনুমা ম্যাডামের ক্যামেরা না ভাঙলে আর এন.জি.ও রা চাপ না দিলে, শেষ পর্যন্ত এই ব্যাপারটিও ধামাচাপা পড়তো।

যাই হোক। ক্যাম্পাসে ফিরে শুনলাম কামালউদ্দিন হলে দুটি ছেলেকে বন্ধের ঠিক আগের দিন মানিক আর টিটু সমবেত ভাবে রাইফেলের বাট দিয়ে পিটিয়েছে। কারণ ধর্ষিতা সম্পর্কে তথ্য প্রদান এবং তাদেরকে জবানবন্ধি দিতে সহায়তা। ওই ঘটনার পরে মানিক আর ক্যাম্পাসে ফেরেনি। সাংবাদিক বন্ধুরা বল্ল পাশা উলটে যাচ্ছে, তদন্ত কমিটি দুদিনের মধ্যেই রেপিস্ট দের তালিকা প্রকাশ করবে। এর সমান্তরালে আওয়ামী লীগের কিছু কুতুব এখনও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তবে তাতে তেমন কাজ আর হবে না। কারণ পুতুল নাচের প্রকৃত সুতায় সাহেব রা টান দিয়ে ছে ইত্যাদি। সাহেবদের প্রতি বেশ কৃতজ্ঞতা বোধ করলাম। আতঙ্ক ভাব টা ক্যাম্পাসে আর নেই। যদিও সাসপেক্টেডদের দখলেই আছে ক্যাম্পাস। ওরা কেমন যেন চুপসে গেছে। ১৯ তারিখে বের হলো তালিকা । ধর্ষণকারী আর সহযোগী মিলিয়ে ১৩ জন । সেদিন রাতের নাটক ভুলবার নয়। আমাদের হলের রণি মাটিতে শুয়ে পড়লো। সি: সি: শুনলেও তো কেমন লাগে সি: আমি নাকি ধর্ষণ করছি ...তারপর আকাশের দিকে জুলহাস কায়সারের মতো তর্জনি তুলে আমি নাকি ধর্ষণ করছি..আল্লাহ তুমি কিন্তু দেখছো তুমি বিচার কইরো ইত্যাদি। টিটু গর্জে উঠলো। তার আক্রমণ তৎকালীন সভাপতি নুরুজ্জামান....নুরুজ্জামান!!!তোমার জন্যে আজ এই অবস্থা এইখানে ছাত্র বহি:স্কার হয়!!!! মানিক ফোন লাগা...মানিক মোবাইল টিপাটিপি করলো অনেক্ষণ ...ফলাফল বোঝা গেলো না। সেদিন রাত্রে সবাই হলের বাইরে। হলে বোধহয় রেপিস্টরা ছাড়া শুধু ভুত ছিল। তারপর শাস্তি ঘোষনা করা হইলো। সেইটা অবশ্য মোটামুটি হাস্যকর ছিল। কারণ ধর্ষণকারীর শাস্তির আবার মেয়াদ কি? এদেরকে বহি:স্কার কইরা কি লাভ? এরা কি পড়তে আইছিল?

যাই হোক শাস্তির তালিকাটা ছিল এই রকম :

মানিক : চিরদিনের জন্যে
মিরাদুল,ডালাস , নাঈম 3 বছর
বাকিদের এক বছর 6 মাস ইত্যাদি ।

এদিকে ছাত্রলীগের বাইরে থাকা গ্রুপটা , যাদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা ছিল, তারা আন্দোলনরে পিছন থিকা আগাগোড়াই সাপোর্ট দিছে। তারা ক্যাম্পাসে ফেরার প্রস্তুতি নিতেছিল। এই খানে একটা ব্যাপার পরিস্কার করা দরকার। যেই কারণেই হোক খুনিদের প্রতি সাধারণ ছাত্রদের তেমন কোন অভিযোগ ছিল না। বরং অনেকেই একটা মিলিটারি টেক ওভার কামনা করতেছিল। তার প্রধান কারণ হইলো বামপন্থীরা যতই ঝাড়ি মারুক সশস্ত্র আক্রমণ মোকাবেলার ক্ষমতা তাদের নাই। এইটা একদিকে আর রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে শক্তের ভক্ত হবার উপাদান তো আছেই। সবমিলিয়ে ঢুঁসঢাঁস করতে পারে এইরকম একটা প্রোটেকশানের প্রয়োজনীয়তা আসলে পাবলিক অনুভব করতেছিল। ১১ মাস আগে বের হইয়া যাওয়া সাধারণ সম্পাদক গ্রুপ বীরদর্পে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলো ২৪ সেপ্টেম্বর । ঘটনা উলটাইয়া গেল ১৮০ ডিগ্রি । রেপিস্টরা পালাইলো এম্বুলেনস এ কইরা। জনৈক বরকত ধরা পড়লো জনতার হাতে। তার হাত পা দুরমুজ দিয়া ছেঁচা হইলো। জনগন আসলেই প্রতিরোধের মুহুর্তে অনেক বেশী নিষ্ঠুর হইয়া যায়। এই নিষ্ঠুরতা না করলে রেপিস্টদের অন্তত মূল পোলাপান গুলারে খেদানো যাইতো না ।

এর পরের একবছর বেশ ভালো ছিল ক্যাম্পাস । বামপন্থী আর নারীবাদীরা একচ্ছত্র রাজত্ব করছে। ছাত্রলীগের ফিরা আসা গ্রুপটা শুধু ক্যাম্পাস পাহারা দিছে। আবার আসছিল অবশ্য রেপিস্টরা। ১৯৯৯ এর জুলাই এর শেষে। সেই ঘটনা পুরাপুরি অন্যের মুখে শোনা। কারণ তখন আমি হাসপাতালে। সেইটা আবার আরেক গল্প।

1 comment:

rANa said...

পূরো লেখাটি পড়লাম, জুনিয়র (২০০৫ ব্যাচ) হিসেবে অনেক ঘটনাই ঝাপসা ছিলো, এখন পরিস্কার একটি ধারনা জন্মালো। অনেক ধন্যবাদ